Image description

সিন্ধু পানিচুক্তি পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে বলে জানিয়েছে নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত স্থায়ী সালিসি আদালত। একই সঙ্গে চুক্তির নিয়ম মেনে চলতে ভারতকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

আদালত বলেছে, ভারত একতরফাভাবে সিন্ধু পানিচুক্তি স্থগিত বা বাতিল করতে পারবে না। ভারত ও পাকিস্তান যৌথভাবে নতুন কোনো চুক্তি না করা পর্যন্ত পুরোনো চুক্তি কার্যকর থাকবে।

পাকিস্তানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৩১ আগস্ট আদালত এ সিদ্ধান্ত জানায়।

২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল পহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত ঘোষণা করেছিল, পাকিস্তান সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ বন্ধ না করা পর্যন্ত সিন্ধু পানিচুক্তি স্থগিত থাকবে। তবে আদালত বলেছে, সন্ত্রাসবাদ, সার্বভৌমত্ব, জলবায়ু পরিবর্তন বা সশস্ত্র সংঘাতের মতো কোনো কারণ দেখিয়ে একতরফাভাবে চুক্তি স্থগিত করা যাবে না।

রাতলে প্রকল্পেও নির্দেশ

চেনাব নদীর ওপর নির্মাণাধীন রাতলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়েও আদালত নির্দেশ দিয়েছে। প্রকল্পটির কিছু নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে সীমিত রাখতে বলা হয়েছে।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, রাতলে বাঁধের দেয়াল ও পানি প্রবেশের কাঠামোর নির্দিষ্ট উচ্চতার ওপরে ভারত আপাতত কংক্রিট ঢালাই করতে পারবে না। নির্মাণকাজের সময়সূচিতে কোনো পরিবর্তন হলে তা আদালতকে জানাতেও বলা হয়েছে।

তবে ভারত শুরু থেকেই এই সালিসি আদালতকে স্বীকৃতি দেয়নি। দিল্লির দাবি, আদালতটি নিয়ম অনুযায়ী গঠিত হয়নি। তাই আদালতের শুনানিতেও ভারত অংশ নেয়নি।

ভারত এর আগে আদালতের সিদ্ধান্তকে ‘অবৈধ’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির অবস্থান হলো, সিন্ধু পানিচুক্তির বিরোধ বিশ্বব্যাংকের মাধ্যমে নিযুক্ত নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের প্রক্রিয়ায় সমাধান করা উচিত।

১৯৬০ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু পানিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির আওতায় দুই দেশের মধ্যে সিন্ধু নদ ও এর শাখা নদীর পানি ব্যবহারের বিষয়ে নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

এসএস